বৃহস্পতিবার, ০২ Jul ২০২৬, ০৬:৪৬ অপরাহ্ন
নদী-চর, খাল-বিল, গজারির বন, টাঙ্গাইল শাড়ি তার গর্বের ধন। টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি বাঙালি রমণীর প্রথম পছন্দ। করোনায় প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর ঈদ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের তাঁতপল্লীগুলোয় বেড়েছে কর্মব্যস্ততা। কিন্তু জৌলুস ফেরেনি আগের মতো।
টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতের শাড়ি দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হয়। করোনা আর লকডাউনের কারণে ঈদ, দুর্গাপূজা ও পহেলা বৈশাখে ব্যবসা করতে পারেননি এখানকার মালিকরা। এবার স্বপ্ন দেখছেন তাঁত শ্রমিক ও মালিকরা।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ধুলটিয়া, বাজিতপুর, সুরুজ, বর্থা, বামনকুশিয়া, তারটিয়া ও দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল, চণ্ডী, নলুয়া, দেওজান, নলশোধা, বিষ্ণুপুর, মঙ্গলহোড়, কালিহাতী উপজেলার বল্লা-রামপুর তাঁতশিল্পের জন্য বিখ্যাত। এখানে তৈরি হয় হাইব্রিড, সুতি ও সিল্ক জামদানি, বালুচরি, ধানসিঁড়ি, আনারকলি, শফট সিল্ক, রেশম, তসর, কাতান, একতারি ও দোতারি নামের নানা শাড়ি।
টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্পের শাড়ি, লুঙ্গি, গামছা, চাদরের সারা বছরই কমবেশি বেচাকেনা হয়ে থাকে। পাইকারি ক্রেতারা সড়কপথে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে কাপড়ের হাট থেকে কিনে নিয়ে বাজারজাত করেন। জেলার করটিয়া, বাজিতপুর, পাথরাইল, বল্লা, রামপুর, জোকারচর হাট কাপড়ের জন্য সুপরিচিত।
সরেজমিনে পাথরাইল, চণ্ডী ও বল্লার তাঁতপল্লী ঘুরে দেখা যায়, ব্যস্ত সময় কাটছে তাঁত শ্রমিকদের। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও কাপড় বুনতে সহযোগিতা করছেন। তাঁতের শাড়ির রাজধানী হিসেবে পরিচিত টাঙ্গাইলের পাথরাইল। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসছেন ক্রেতারা। চলছে পাইকারি-খুচরা শাড়ি বিক্রি। দুই বছরে অনেক তাঁত বন্ধ হয়ে গেছে। সুতার মূল্যবৃদ্ধিতে বেড়েছে শাড়ির দামও। টাঙ্গাইল শাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও যজ্ঞেশ্বর অ্যান্ড কোংয়ের মালিক রঘুনাথ বসাক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের শাড়ি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীসহ অনেক বড় মাপের মানুষ পরেন। করোনার কারণে এ এলাকার প্রায় ৫০ শতাংশ তাঁত বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক শ্রমিক অন্য পেশায় চলে গেছেন। আবার অনেকে পুঁজি হারিয়ে ফেলেছেন। টাঙ্গাইলের শাড়ি সারা দেশেই যায়। ঈদে আগের মতো কেনাবেচার সেই জোয়ার নেই। এক হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার টাকা দামের শাড়ি বেশি বিক্রি হয়। উৎপাদনের সব কাঁচামালের দাম কয়েক গুণ বেশি হয়ে গেছে। কিন্তু সেই হারে কাপড়ের দাম বাড়েনি। এ শিল্পকে বাঁচাতে হলে ভারতীয় শাড়ি আমদানি বন্ধ করাসহ সরকারি সাহায্য বাড়াতে হবে। ’